
বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের আড়ালে আসা বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রার চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপ। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা এসব নিষিদ্ধ ওষুধের চালানটি বন্দর থেকে পাচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ‘আরাফাত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ১৬ টন ‘কোয়ার্টজ পাউডার’ আমদানির ঘোষণা দেয়। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘হায়দার অ্যান্ড সন্স’। কিন্তু কাস্টমসের সন্দেহ হওয়ায় পণ্যগুলো ল্যাব পরীায় পাঠানো হয়। পরীায় বেরিয়ে আসে, আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে ৩,৬৭৫ কেজিই আসলে নিষিদ্ধ ভায়াগ্রা। বর্তমানে এই চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর শেডে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ‘বািেজদ এন্টারপ্রাইজ’-এর আমদানি করা আরও ২,৭০০ কেজি ভায়াগ্রা ৩৪ নম্বর শেডে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
সম্প্রতি বন্দর থেকে কোটি টাকার পণ্য পাচারের ঘটনায় ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর টনক নড়েছে কর্তৃপরে। নতুন করে এই চালানটি গায়েব করার ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী বন্দর কর্তৃপকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
নির্দেশনার পরিপ্রেেিত বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, ৩২ ও ৩৪ নম্বর শেডসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এখন আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ‘আল-আরাফা’ এবং নিজস্ব গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বণিক নজরদারি করছেন।
এ ধরনের তিকর ওষুধের অনুপ্রবেশ তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও বারবার কীভাবে এমন নিষিদ্ধ পণ্য বন্দরে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ােভ ও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, অসাধু চক্রের এই অপকর্মের মাশুল দিতে হচ্ছে তাদের, যা বন্দরের ব্যবসায়িক ভাবমূর্তিকে ুণ্ণ করছে।